নিজের বইয়ের ব্র্যান্ডিং

imagesএই ফেসবুকের যুগে আমরা সবাই মোটামুটি লেখালেখি করি। সবার মধ্যেই কমবেশী একটা লেখক সত্ত্বা কাজ করে। কেউ কেউ লেখে জাগতিক জীবন নিয়ে। কেউবা কল্পনার ডালপালা ছড়িয়ে দেয়। প্রতিবার বইমেলা এলে হাজারো লেখকের ভিড়ে আপনারো মনে হতে পারে একটা বই লিখলে মন্দ হতোনা। তাছাড়া কথিত আছে দেশে কাকের চেয়ে কবির সংখ্যা বেশী। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে।

একসময় বইমেলায় গেলে আমরা বন্ধুরা খুব মজা করতাম। লেখক মঞ্চ একটা জায়গা থাকে।বিজ্ঞ লেখকরা বসে বসে কঠিন কঠিন বিষয়ে আলোচনা করে। আমরা ওখানে যেয়ে সব চেয়ার দখল করে আড্ডা মারতাম। আর জ্ঞানী-গুনী লেখকদের জ্বালাতাম। কিংবা দলবেধে প্রত্যেক স্টলে স্টলে গিয়ে – ‘ভাই জাহের ওয়াসিমের কোন বই আছে? ‘

বেশিরভাগ সেলসম্যান ভড়কে যেত। এমন নাম কখনোই শুনেনাই। অন্তঃত লেখক।
তাকে আরেকটু ভড়কানোর জন্য, ভাই উনার বইটা আমার দশ কপি লাগবে। আমার খুব প্রিয় রাইটার।

তখন দোকানদার একটু ভেবে , আচ্ছা এখনো আসেনি। সামনের সপ্তায় একবার খোঁজ নিবেন।

এভাবে সব দোকানে যেয়ে মজা করতাম। এটা হল সেলফ ব্র্যান্ডিং। আমি লেখক নই। শুধু মজা করার জন্যই করতাম। তবে যারা লেখক হতে চান – তারা এটা ট্রাই করতে পারেন। মোটামুটী শ’খানেক দোকানে যদি এই ব্র্যান্ডিং চালাতে পারেন তবে একটা গতি হবে। আপনি করলেন। আপনার বন্ধুদের দিয়েও করালেন। ধরুন জামশেদ রাইসু – নাম আপনার। সব দোকানে গিয়ে জামশেদ রাইসুর বই আছে?

মোটামুটি প্রকাশকদের মাথায় যাবে , জামশেদ রাইসু নামক একজন নামি লেখক আছে। সবাই তার বই চায়। কে এই জামশেদ রাইসু ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *