নীরব প্রতিশোধ

revengeবুয়েটের সোনালী ব্যাংকে গিয়েছিলাম সার্টিফিকেট উঠানোর ফী জমা দিতে।জমা ফরম পূরন করছিলাম। হঠাত ক্লীনশেভড মধ্যবয়স্ক এক লোক এসে বলল, আপনার কাছে পেন হবে?
আমি বললাম , হবে । কিন্তু একটু অপেক্ষা করতে হবে। পাঁচ মিনিট। কাজ করছি।
লোকটা মৃদু শ্রাগ করে অধৈর্য্য হয়ে চলে গেলো। পাঁচ মিনিট ওয়েট করার সময় মনে হয় উনার নাই।

আমি টাকা জমা দিয়ে বুয়েটে ডিপার্টমেন্টে গেলাম কাগজপত্র সত্যায়িত করতে। বুয়েটের শিক্ষক দিয়ে সত্যায়িত করতে হবে। কেন এই অদ্ভুত নিয়ম জানিনা। বুয়েটের প্রভিশনাল সার্টিফিকেট উঠাতে এই প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে যেতে হয়।

বুয়েট ছুটি থাকায় দেখলাম তেমন কোন স্যার ডিপার্টমেন্টে নাই। আমি স্যারদের টি রুমে উঁকি মেরে দেখলাম কেউ আছে কিনা। দেখি ব্যাংকের ওই ভদ্রলোক। উনি যে বুয়েটের শিক্ষক তা জানতাম না। স্যারকে ডিপার্টমেন্টে দেখিনি কখনো। হয়তো দেশের বাইরে ছিলেন দীর্ঘদিন।

আমি ভিতরে গিয়ে বললাম, স্যার আপনার কি পাঁচ মিনিট সময় হবে? আমার কিছু পেপারস সত্যায়িত করে দিতে হবে।

ব্যাংকের অনাকাংখিত ব্যাপারটার জন্য ভীষণ লজ্জা লাগছিল।

স্যার আমার হাত দেখে কাগজপত্র নিয়ে আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবিটা দেখলেন।

দেখে বললেন, তোমাকেতো বুয়েটে কখনো দেখেছি বলে মনে হয়না। জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবিও দেখি মিলেনা তোমার সাথে। তোমাকে সাইন দেয়া যাবেনা। তুমি যাও।

স্যার মনে হয় ব্যাংকের ব্যাপারটায় কষ্ট পেয়েছেন। এইজন্যই মনে হয় নীরব প্রতিশোধ নিলেন 😛

আমি চলে আসলাম। আর জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি দেখে উনি আমাকে চিনবেন কিভাবে, যেখানে আমার মা ই আমাকে চিনতে পারেন না 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published.