মেসি ও বার্সা

 

606413401tb00068-united-staইউনিভার্সিটিতে সেকেন্ড ইয়ারে তখন। লাইফের ফার্স্ট টিউশনি করা শুরু করলাম। ধানমন্ডী বাসা ছাত্রের। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে। প্রথম দিন যাওয়ার পর ছাত্রের বাবা বলল, ও কিন্তু খুব তাঁদোড়। পড়ালেখা একদম করেনা। খালি ফুটবল খেলা দেখে। তুমি একটু বুঝায়ে পড়াইয়ো।

আমি প্রথমদিন পড়াতে গেলাম। ছেলে কয়, “ভাইয়া কালকে বার্সার খেলা দেখছেন?”

আমি তখনো ফুটবলের এতো ভক্ত হইনাই। কলেজ লাইফে আমাদের বাসায় টিভি দেখা নিষিদ্ধ করেছিলেন আব্বা। তাই খেলা তেমন দেখতাম না। বুয়েটে আসার পর পেপারে নিউজ পড়ে এতোটুকু জানি বার্সেলোনা একটা টীম আছে । মেসি তার একজন ভালো প্লেয়ার। এতোটুকুই ক্লু।

আমি বললাম, “মেসি এইটা করলো কি? লাস্টের দিকের টুইস্টটা বেশী হয়ে গেছে। ওই পাসটা কেমনে যে মিস হইল ! ” এতোটুকু বলার পর, ছাত্রের মুখ উজ্জ্বল। আবার শুরু মেসিকে নিয়ে গল্প। আমি কিন্তু খেলা দেখিনাই। হালকা সেফ সাইড থেকে বল পাস করছি। কাজে লাগছে।

এরপর মাঝে মধ্যেই খেলা নিয়ে আলোচনা হইতো।
“ভাইয়া মেসি কালকে কি করলো দেখছেন?
“আরে বইলো না , এই পোলাডারে এতো পছন্দ করি , কালকে এইটা কি খেল্লো? আমি পুরাই হতাশ। নাহ, ওরে আরো টেকনিক্যালী খেলতে হবে ”

আমি জাস্ট এইসব আলোচনা করতাম ওর সাথে একটু আলোচনা করে পড়ার দিকে আনার । তখনো আমি খেলাটেলা অতো দেখতাম না। আর এই টেকনিক কাজে দিত। ছেলেটা ও লেভেলে খুব ভালো করলো।

গত সপ্তাহে শুনলাম , অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়তে। শুনে খুব ভালো লাগলো।

তবে ফান করতে করতে এই মেসি ছেলেটাকে সিরিয়াসলি ভালোবেসে ফেলেছি। পরবর্তীতে ওর খেলা যখন দেখা শুরু করলাম দেখলাম সে আসলে শুধু ভালো খেলোয়াড়ই না , অসম্ভব ভালো একজন মানুষ।

আজকে এক বার্সা ফান বড় ভাই খুব মন খারাপ করে ছিলেন। গত কালকের ঘটনার কারনে। আরেক বড় ভাই বললেন, মন খারাপ করোনা। আমাদের প্রজন্মের সৌভাগ্য আমরা মেসির খেলা নিজ চোখে দেখে যেতে পারছি। ভিডিওতে দেখতে হচ্ছেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *