অযাচিত স্যালুট

imagesরাত দশটার মতো বাজে । গিয়েছিলাম মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে । এক ছোট ভাই আছে MIST তে পড়ে। বলল ‘ভাই চলেন বাইকে করে একটা চক্কর দেই’। আমি বললাম, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা – ঝামেলা করবেনাতো এমপিরা (মিলিটারি পুলিশ) ? তাছাড়া হেলমেট একটা। তোর জন্য হেলমেট নাই। ও বলল, ‘আরে ভাই সমস্যা নাই। আমার আব্বা রিটায়ার্ড কর্ণেল। ধরলে আব্বার কথা বলবো’।
ওর কথায় ভরসা করে দুরুদুরু বক্ষে ওকে পিছনে নিয়ে বাইকে টান দিলাম। গভীর রাত। নির্জন ক্যান্টনমেন্ট এলাকা। আমার মাথায় হেলমেট। কিছুদুর যাওয়ার পর একটা এমপি চেকপোস্ট। দায়িত্বরত এমপি ভাবলো আমি বোধহয় কোন আর্মি অফিসার কিনা। বিশাল শব্দ করে একটা স্যালুট দিল। আমিও হাসি চেপে মাথা নড করলাম। রাতের নীরবতার কারনে এই স্যালুটের আওয়াঁজ পরের চেকপোস্টে চলে গেলো। পরেরটাতেও বিশাল স্যালুট। এইভাবে আরো দুইটা পার হওয়ার পরে দেখলাম ডেড এন্ড। মানে আর পথ নাই। এটা সম্ভবত অফিসারদের কোয়ার্টার। আমি বাইক ঘুরিয়ে উল্টোপথে রওনা দিলাম। এবার এমপিরা সতর্ক হলো নিজেদের ভূল বুঝতে পেরে। কোন অফিসার হলেতো অবশ্যই কোয়ার্টারে ঢুকে পড়ত। উলটা পথে আসতোনা। তবে তারা একটা দ্বিধাদ্বন্দে পড়ল। স্যালুট দিলোনা – আবার মোটরসাইকেলও আটাকালোনা। আমি কোনমতে হাসি চেপে এক টান দিয়ে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে চলে এলাম 🙂

জীবনে এই প্রথম কোন যোগ্যতা কিংবা কারন ছাড়াই স্যালুট পেলাম ফ্রী ফ্রী , এটাই বা কম কিসে ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *