সুখপাখি

relationহলে থাকতে আমার পাশের রুমে এক বড়ভাই ছিলেন । উনি অনেকদিন ধরে কোন টিউশনী পাচ্ছেন না দেখে পেপারে একটা অ্যাড দিলেন।

‘ পড়াতে চাই, রাকিব , বুয়েট, ডাবল গোল্ডেন, …’ – এই শিরোনামে।

যেইদিন অ্যাড দিলেন, সেইদিন সারাদিন ফোন হাতে নিয়ে ভাই অপেক্ষা করলেন। কখন কল আসবে। কখন কল আসবে। এমনকি সেইদিন ক্লাসেও গেলেন না। কিন্তু কোন কল এলোনা। পরেরদিন একটা unknown নাম্বার থেকে ফোন এলো। ভাই খুব উত্তেজিত হয়ে ফোন ধরলেন।
“বুয়েট থেকে রাকিব (ছদ্মনাম) বলছেন ?”
“জ্বী রাকিব বলছি। আপনাদের কি টিউটর লাগবে?”
“না , টিউটর লাগবে না।” (ভাই হতাশ)
” তাহলে আপনি কে বলছেন প্লীজ?”
“আমি লিয়ানা। বরিশাল মেডিকাল কলেজ থেকে বলছি। অ্যাকচুয়ালী আপনি টিউশনির পোস্ট দিয়েছেন প্রথম আলোতে। ওখানে আপনার নাম্বার পেয়েছি। ভাবলাম একটা ফোন দেই। আমি শুনেছি বুয়েটিয়ানরা খুবই অহংকারী। কিন্তু কখনো কোন বুয়েটিয়ানের সাথে কথা হয়নি। … “

এভাবে দু’কথা চারকথায় কথা আগাল। চকোলেট আদান প্রদান চলল কুরিয়ারে। সেই ডাক্তার আপু ভাইকে প্রচুর গিফট পাঠাতেন। ভাইও পাঠাতেন।

তারপর দেখা । প্রেম। ঘুরাঘুরি। ফোনে কথা। একসাথে খাওয়া।

বিষয়টা একদম ভূলেই গিয়েছিলাম। কিছুদিন আগে বুয়েটের ক্যাফের সামনে রাকিব ভাইয়ের সাথে দেখা। সাথে দেখি এক আপু। ভাই পরিচয় করে দিলেন, “ওয়াসিম – তোর ভাবী”।

– “লিয়ানা , ও হচ্ছে ওয়াসিম । হলে আমার পাশের রুমে থাকত। ”

অতঃপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *